ইহরাম অবস্থায় নিচের কাজ সমূহ করা মাকরূহ:
﴾১﴿ শরীরের ময়লা পরিষ্কার করা। ﴾২﴿ চুল কিংবা শরীর সাবান ইত্যাদি দ্বারা ধৌত করা। ﴾৩﴿ চিরুনী ব্যবহার করা। ﴾৪﴿ এমন ভাবে চুলকানো যাতে চুল (লোম, কেশ) ঝড়ে পড়ার কিংবা উকুন পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ﴾৫﴿ জামা কিংবা শেরওয়ানী ইত্যাদি পরিধানের মত করে কাঁধের উপর ঝুলিয়ে নেয়া। ﴾৬﴿ জেনে বুঝে সুগন্ধির ঘ্রাণ নেয়া। ﴾৭﴿ সুগন্ধিযুক্ত ফল কিংবা পাতা যেমন লেবু, পুদিনা, নারঙ্গী ইত্যাদির ঘ্রাণ নেওয়া। (খাওয়ার মধ্যে এসবের কোন অসুবিধা নেই) ﴾৮﴿ আতর বিক্রেতার দোকানে এই নিয়্যতে বসা, যেন সুগন্ধি আসে। ﴾৯﴿ চড়ানো সুগন্ধি হাত দ্বারা স্পর্শ করা। যদি হাতে না লাগে তখন মাকরূহ হবে, অন্যথায় হারাম হবে। ﴾১০﴿ এমন কোন বস্তু খাওয়া কিংবা পান করা, যার মধ্যে খুশবু পড়েছে তা মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। না হয় তা রান্না হয়েছে নতুবা তার ঘ্রাণ দূরীভূত হয়ে গেছে। ﴾১১﴿ কা’বা শরীফের গিলাপের ভিতর এভাবে প্রবেশ করা যাতে গিলাপ শরীফ মাথা কিংবা মুখমন্ডলে লেগে যায়। ﴾১২﴿ নাক ও মুখের কোন অংশ কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখা। ﴾১৩﴿ সেলাইহীন কাপড় রিপু করা, কিংবা পাট্টা (তালি) লাগানো কাপড় পরিধান করা। ﴾১৪﴿ বালিশে মুখ রেখে উপুড় হয়ে শয়ন করা। (ইহরাম ছাড়াও উপুড় হয়ে শয়ন করা নিষেধ রয়েছে, হাদীস শরীফে এভাবে শয়ন করাকে জাহান্নামীদের নিয়ম বলা হয়েছে।) ﴾১৫﴿ তাবীজ, যদিও তা সেলাইহীন কাপড়ে বেঁধে নেয়া হোক না কেন, তা শরীরে জড়ানো মাকরূহ হবে। হ্যাঁ, যদি সেলাইহীন কাপড়ে বাঁধা তাবীজ বাহু ইত্যাদি কোন জায়গায় না বেঁধে বরং গলাতে ঝুলিয়ে নেয়, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। ﴾১৬﴿ মাথা কিংবা মুখের উপর পাট্টি বাঁধা। ﴾১৭﴿ বিনা প্রয়োজনে শরীরের উপর পাট্টি বাঁধা। ﴾১৮﴿ কোন রকম সাজ সজ্জা গ্রহণ করা। ﴾১৯﴿ চাদর জড়িয়ে তার মাথায় গিরা দিয়ে দেয়া যদি মাথা খোলা থাকে। অন্যথায় হারাম হবে। ﴾২০﴿ লুঙ্গির (তাহবন্দের) উভয় পার্শ্বে গিরা দিয়ে দেয়া। ﴾২১﴿ টাকা ইত্যাদি রাখার নিয়্যতে পকেটযুক্ত বেল্ট বাঁধার অনুমতি আছে। তবে শুধু তাহবন্দকে শক্ত করে চেপে ধরার নিয়্যতে বেল্ট কিংবা রশি ইত্যাদি বাঁধা মাকরূহ। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১০৭৯, ১০৮০ পৃষ্ঠা)
───────────
‘রফিকুল হারামাঈন’ কিতাবের ৬২-৬৩ পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি ডাউনলোড করুন। আরো ইসলামিক কিতাব পেতে এখানে যান।

0 Comments