পাগড়ী বাঁধার ২৫টি সুন্নাত ও আদব
নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, তাজেদারে রিসালাত, হুযুর পুরনুর (ﷺ) এর ৬ টি বাণী:
১. “ পাগড়ী সহকারে দুই রাকাত নামায পাগড়ী বিহীন সত্তর (৭০) রাকাত (নামাযের) চেয়ে উত্তম।”
[বিমাসুরীল খাত্তাব, ২য় খন্ড, ২৬৫ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ৩২৩৩]
২. “ আমাদের এবং মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হলাে টুপির উপর পাগড়ী (পরিধান করা)। মুসলমান নিজের মাথায় প্রতিটি প্যাঁচ দেওয়াতে কিয়ামতের দিন তাঁর জন্য একটি করে নূর দান করা হবে। ”
[আল জামেউস সগীর লিস সুয়ুতী, ৩৫৩ পৃষ্ঠা , হাদীসঃ ৫৭২৫]
৩. “ নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ জুমার দিন পাগড়ী পরিধানকারীর উপর দরূদ প্রেরণ করেন। ”
[আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ১ম খন্ড, ১৪৭ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ৫২৯]
৪. “ পাগড়ী সহকারে নামায আদায় করা দশ হাজার নেকীর সমপরিমাণ। ”
[প্রাগুক্ত, ২য় খন্ড, ৪০৬ পৃষ্ঠা, হাদীসঃ ৩৮০৫] [ফতােওয়ায়ে রযবিয়্যাহ, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২২০ পৃষ্ঠা]
৫. “ পাগড়ী সহকারে একটি জুমা পাগড়ী বিহীন সত্তরটি জুমার সমান। ”
[তারিখে মদীনা দামেশক লি ইবনে আসাকির, ৩৭ তম খন্ড, ৩৫৫ পৃষ্ঠা]
৬. “ পাগড়ী আরবের মুকুট স্বরূপ। তােমরা পাগড়ী বাঁধো, তােমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। যে ব্যক্তি পাগড়ী বাঁধবে , তার জন্য প্রতিটি প্যাচের বিনিময়ে একটি করে নেকী রয়েছে। ”
[কানযুল উম্মাল, ১৫ তম খন্ড, ১৩৩ পৃষ্ঠা, হাদিসঃ ৪১১৩৮]
৭. “ পাগড়ী দাঁড়িয়ে আর পায়জামা বসে পরিধান করুন। যে ব্যক্তি এর বিপরীত করবে (অর্থাৎ দাঁড়িয়ে পায়জামা পরিধান করবে এবং বসে বসে পাগড়ী বাঁধবে) সে এমন রােগে আক্রান্ত হবে যার কোন চিকিৎসা নেই। ”
[বাহারে শরিয়াতঃ ৩য় খন্ড, ৬৬০ পৃষ্টা]
৮. পাগড়ী বাঁধার পর্বে থামুন আর ভাল ভাল নিয়ত করে নিন, যদি একটি ভাল নিয়্যত না থাকে, তবে তাতে সাওয়াব পাওয়া যাবে না। এজন্য অন্তত এই নিয়্যত করে নিন ; আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুন্নাত পালনার্থে ইমামা (পাগড়ী) বাঁধছি।
৯. যথারীতি নিয়ম হলাে; পাগড়ীর প্রথম প্যাঁচটি মাথার ডান দিকে যাবে।
[ফতোয়ায়ে রযবিয়্যাহ, ২২ তম খন্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা]
১০. খাতামুল মুরসালীন , রাহমাতুলিল আলামীন , রাসূলে আমীন (ﷺ) এর পাগড়ীর শিমলা ( বা প্রান্ত) প্রায়শ পেছন দিকেই (অর্থাৎ পিঠ মােবারকে) থাকতাে। আবার কখনাে কখনাে ডান দিকে। কখনো দুই কাঁধের মাঝখানে দুইটি শিমলা থাকতাে। শিমলাকে বাম দিকে রাখা সুন্নাতের পরিপন্থি।
[আশিয়াতুল লুমআত, ৩য় খন্ড, ৫৮২ পৃষ্ঠা]
১১. পাগড়ীর শিমলার পরিমান কমপক্ষে চার আঙ্গুল।
১২. সর্বাধিক (পিঠের আধাআধি পর্যন্ত) অর্থাৎ প্রায় এক হাত। মাঝখানে আঙ্গুলের আগা থেকে কুনুই পর্যন্ত পরিমাপকে এক হাত বলা হয়।
[ফতােওয়ায়ে রযবিয়্যাহ, ২২ তম খন্ড, ১৮২ পৃষ্ঠা]
১৩. কিবলামুখি হয়ে দাঁড়িয়ে পাগড়ী বাঁধবেন।
[কাশফুল ইলতিবাস লিস শায়খ আব্দুল হক দেহলভীঃ ৩৮ পৃষ্ঠা]
১৪. পাগড়ী যেন আড়াই গজের কম না হয় , আর ছয় গজের বেশি না হয় , কেননা , সেটিই সুন্নাত। আর সেটার বাধা যেন গম্বুজের মতাে হয়।
[ফতোয়ায়ে রযবিয়্যাহঃ ২২ তম খন্ড , ১৮৬ পৃষ্ঠা]
১৫. রুমাল যদি বড় হয়, আর এতটি প্যাঁচ দেওয়া যায়, যা দ্বারা মাথা ঢেকে যাবে, তা হলে সেটি পাগড়ীই হয়ে গেল।
১৬. পক্ষান্তরে ছােট রুমাল, যা দ্বারা শুধু দুই এক প্যাঁচ দেওয়া যায়, সেটি বাঁধা মাকরূহ।
[ফতোয়ায়ে রযবিয়্যাহঃ ২য় খন্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা]
১৭. পাগড়ী যখন নতুন ভাবে বাঁধতে হয় তখন যেভাবে বেঁধেছেন ঐভাবে খুলবেন এক পার্শ্ব মাটিতে ফেলবেন না।
[আলমগিরী, ৫ম খন্ড , ৩০০ পৃষ্ঠা]
১৮. যদি প্রয়োজনে কেউ পাগড়ী নামিয়ে (খুলে) ফেলে। পুনরায় বাঁধার নিয়্যত করলাে তাহলে এক একটি করে প্যাঁচ খুলে নেওয়াতে এক একটি করে গুনাহ্ মিটিয়ে দেওয়া হবে।
[ফতওয়ায়ে রযবিয়্যাহঃ ৬ষ্ঠ খন্ড, ২১৪ পৃষ্ঠা]
ইমামা (পাগড়ী) শরীফের ৬ টি ডাক্তারী উপকারিতা লক্ষ্য করুন:
১৯. যারা মাথা খােলা রাখে, তাদের চুলে গরম , ঠান্ডা, রােদ অন্যান্য ক্ষতিকর বস্তু সরাসরি প্রভাবিত করে, যার কারণে শুধু চুল নয় বরং মস্তিস্ক এবং চেহারায় তার প্রভাব পড়ে এবং শরীরে ক্ষতি হয়, তাই সুন্নাত অনুসরণের নিয়্যতে ইমামা (পাগড়ী) বাঁধার মধ্যে উভয় জগতের কল্যাণ রয়েছে।
২০. ডাক্তারী বিশ্লেষণ অনুযায়ী মাথা ব্যথার জন্য ইমামা (পাগড়ী) শরীফ পরিধান করা অনেক উপকারী।
২১. ইমামা (পাগড়ী) শরীফের মাধ্যমে মস্তিস্কে শক্তি যােগায় এবং স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
২২. ইমামা (পাগড়ী) শরীফ বাঁধার ফলে দীর্ঘস্থায়ী সর্দি হয় না, হলেও তার প্রভাব কম হয়।
২৩. ইমাম শরীফের শিমলা দেহের নিন্মভাগের অর্ধাঙ্গ রােগ থেকে রক্ষা করে। কেননা, ইমামার (পাগড়ীর) শিমলা হারাম মজ্জাকে মৌসুমী প্রভাব যেমন- ঠান্ডা , গরম ইত্যাদি হতে রক্ষা করে।
২৪. পাগড়ীর শিমলা উন্মত্ততার আশংকা কমিয়ে দেয়।
[কাশফুল ইলতিস ফি ইসতিহবা বিল লিবাস , ৩৮ পৃষ্ঠা]
২৫. শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী বলেন: “ রাসুল ﷺ এর পাগড়ি মোবারক অধিকাংশ সাদা, আবার কখনে কালো, কখনো সবুজ হতো।”
[কাশফুল ইলতিস ফি ইসতিহবা বিল লিবাস , ৩৮ পৃষ্ঠা]
মাওলানা মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবী دَامَتْ بَرَكَتُهُمُ الْعَلِيَه এর ‘১৬৩ মাদানী ফুল’ নামক রিসালা হতে সংগৃহীত। রিসালাটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

0 Comments