সদকার ফযিলত সম্বলিত পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বাণী



সদকার ফযিলত সম্বলিত পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বাণী:


ক. কুরআন মাজিদের বাণী:

‘‘ ঐসব লােক, যারা স্বীয় সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, অতঃপর ব্যয় করার পর না খোঁটা দেয়, না ক্লেশ দেয়, তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে এবং তাদের না আছে কোন আশংকা না আছে কোন দুঃখ। ভালাে কথা বলা এবং ক্ষমা করা, সেই সদকা অপেক্ষা শ্রেয়তর, যারপর ক্লেশ দেয়া হয়। ’’ (১)

‘‘ তােমরা কখনাে পূণ্য পর্যন্ত পৌছবেনা যতক্ষণ আল্লাহর পথে আপন প্রিয়বস্তু ব্যয় করবে না এবং তােমরা যা কিছু ব্যয় করাে তা আল্লাহর জানা আছে। ’’ (২)

‘‘ তাতে হিদায়ত রয়েছে খােদাভীতি সম্পন্নদের জন্য, তারাই, যারা না দেখে ঈমান আনে নামায কায়েম রাখে এবং আমার প্রদত্ত জীবিকা থেকে আমার পথে ব্যয় করে। ’’ (৩)

‘‘ হে ঈমানদারগণ! আপন দানকে নিষ্ফল করে দিওনা, খোঁটা দিয়ে এবং ক্লেশ দিয়ে। ’’ (৪)

খ. হাদিস শরিফের বাণী:

 ‘‘ সদকা অমঙ্গলের ৭০টি দরজা বন্ধ করে দেয়। ’’ (৫)

 ‘‘ প্রত্যেক ব্যক্তি (কিয়ামতের দিন) নিজের সদকার ছায়ায় থাকবে, এমনকি মানুষের মাঝে ফয়সালা করে দেয়া হবে। ’’ (৬)

 ‘‘ নিশ্চয় সদকা প্রদানকারীকে সদকা কবরের গরম (উষ্ণতা) থেকে রক্ষা করবে এবং নিঃসন্দেহে মুসলমান কিয়ামতের দিন নিজ সদকার ছায়ায় থাকবে। ’’ (৭)

 ‘‘ নামায হলাে (ঈমানের) দলীল এবং রােযা হলাে (গুনাহ) ঢাল স্বরূপ আর সদকা গুনাহকে এভাবে মিটিয়ে দেয়, যেমনিভাবে পানি আগুনকে। ” (৮)

 ‘‘ ভােরে সদকা করাে, কেননা বিপদাপদ সদকার আগে কদম বাড়ায় না। ’’ (৯)

 ‘‘ নিশ্চয় মুসলমানের সদকা বয়স বৃদ্ধি করে এবং মন্দ মৃত্যুকে প্রতিরােধ করে আর আল্লাহ তায়ালা এর বরকতে সদকা প্রদানকারী থেকে অহঙ্কার ও গর্ব (মন্দ স্বভাব) দূর করে দেয়। ’’ (১০)

 ‘‘ যে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য সদকা প্রদান করে, তবে তা (সদকা) তার এবং আগুনের মধ্যখানে পর্দা হয়ে যায়। ’’ (১১)

 ‘‘ নিশ্চয় সদকা রব তায়ালার গযবকে প্রশমিত করে এবং মন্দ মৃত্যুকে প্রতিরােধ করে। ’’ (১২)

 ‘‘ সদকা করার ক্ষেত্রে হাতকে সংকুচিত করাে না, নয়তাে তােমাদের প্রতিও সংকুচিত করে নেয়া হবে। ’’ (১৩)

রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন, ‘‘ তোমাদের মধ্যে কার নিজের সম্পদের চেয়ে বেশি ওয়ারিশদের সম্পদ পছন্দ) সাহাবায়ে কিরাম (আলাইহিমুর রিদ্বুয়ান) আরয করলেন: “ ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমাদের মধ্যে সবারই নিজের সম্পদই বেশি পছন্দ। তিনি ﷺ  ইরশাদ করলেন মানুষের নিজস্ব সম্পদ  তাে তা, যা সে পূর্বেই প্রেরণ করে দিয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার পথে ব্যয় করে দিয়েছে) এবং যা সে পরবর্তীতে (দুনিয়ায়) রেখে গিয়েছে, তা তার ওয়ারিশদের সম্পদ। ’’ (১৪)

তথ্যসূত্র:-

১. [সুরা বাকারা: ২৬২-২৬৩]
২. [সুরা আলে ইমরান: ৯২]
৩. [সুরা বাকারা: ২-৩]
৪. [সূরা বাকারা: ২৬৪]
৫. [মুজামুল কবির: হাদিস/৪৪০২]
৬. [মু'জামুল কবীর: হাদিস/৭৭১)
৭. [শুয়াবুল ঈমান: হাদিস/৩৩৪৭]
৮. [তিরমিযী: হাদিস/৬১৪]
৯. [শুয়াবুল ঈমান: হাদিস/৩৩৫৩]
১০. [মু’জামুল কবীর: হাদিস/৩১]
১১. [মাযমুয়ায যাওয়ায়িদ: হাদিস/৪৬১৭]
১২. [তিরমিযী: হাদিস/৬৬৪]
১৩. [বুখারী: হাদিস/১৪৩৩]
১৪. [সহীহুল বুখারী: হাদিস/৬৪৪২]

Post a Comment

0 Comments