বােরকা পরিহিতা গ্রাম্য মহিলা:
(শিক্ষণীয় ঘটনা)
হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত সায়্যিদুনা ইমাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ গাযালী رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہ উদ্ধৃত করেন:
“ হযরত সায়্যিদুনা সুলায়মান বিন ইয়াসার رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہ খুবই খােদাভীরু ও পরহেযগার এবং অপরূপ সুদর্শন যুবক ছিলেন। একবার হজ্বের সফরে “ আবওয়াহ ” নামক স্থানে তিনি একা তাবুতে অবস্থান করছিলেন। তার সফরসঙ্গি খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। হঠাৎ এক বােরকা পরিহিতা গ্রাম্য মহিলা তার তাবুতে প্রবেশ করলাে এবং সে তার চেহারার পর্দা উঠিয়ে দিলাে! তার সৌন্দৰ্য্যতা খুবই ফিতনাযুক্ত ছিলাে। সেই মহিলাটি বলতে লাগলাে: “ আমাকে কিছু দান করুন। ” তিনি মনে করলেন যে সম্ভবত রুটির আবেদন করছে। তখন সেই মহিলাটি বলতে লাগলাে: “ একজন স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে যা কামনা করে আমিও তাই কামনা করছি। ” তিনি رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہ খােদাভীরুতায় কাঁপতে লাগলেন। “ আমার কাছে তােকে শয়তান পাঠিয়েছে ” এতটুকু বলার পর তিনি নিজের মাথাকে হাটুর উপরে রাখলেন ও উচ্চ আওয়াজে কান্না করতে লাগলেন, এ অবস্থা দেখে বােরকা পরিহিতা গ্রাম্য মহিলাটি হতভম্ব হয়ে তাড়াতাড়ি তাবু থেকে বের হয়ে গেলাে। যখন তার সফরসঙ্গী ফিরে আসলাে এবং দেখলাে যে, তিনি رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہ কেঁদে কেঁদে তাঁর চোখগুলাে ফুলিয়ে দিলেন এবং গলার আওয়াজ বসিয়ে দিলেন। তখন সে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলাে। তিনি প্রথমে তাল বাহানা করতে লাগলেন। কিন্তু বন্ধুর বারবার জিজ্ঞাসার কারণে সত্যি ঘটনা প্রকাশ করলেন। তখন সেও কাঁদতে লাগলাে। তিনি বললেন : “ তুমি কেন কান্না করছাে? ” সে বললাে: “ আমার তাে আরও অধিক পরিমাণে কান্না করা উচিত। কেননা, যদি আপনার পরিবর্তে আমি হতাম, তাহলে সম্ভবত ধৈর্যধারন করতে পারতাম না। ” (অর্থাৎ সম্ভবত গুনাহে লিপ্ত হয়ে যেতাম) অতঃপর উভয়ে কাঁদতে কাঁদতে মক্কায়ে মুকাররমায় পৌছে গেলেন। তাওয়াফ ও সাঈ ইত্যাদি করার পর হযরত সায়্যিদুনা সুলায়মান বিন ইয়াসার رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہ কাবা শরীফের হাতিমের মধ্যে উভয় হাটু মাটিতে রেখে চাদর দিয়ে বেঁধে বসে গেলেন। ততক্ষণাৎ ঘুম তাকে ঘিরে নিলাে এবং স্বপ্নের দুনিয়ায় চলে গেলেন। (স্বপ্নে) এক অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারি, সুগন্ধিযুক্ত সুন্দর পােশাক পরিহিত দীর্ঘ উচ্চতার একজন বুযুর্গকে দেখলেন। হযরত সায়্যিদুনা সুলায়মান বিন ইয়াসার رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہ জিজ্ঞাসা করলেন: “ আপনি কে? ” উত্তর দিলেন: “ আমি (আল্লাহর নবী) ইউসুফ ” তখন তিনি বললেন: “ ইয়া নবীয়াল্লাহ! জুলেখার সাথে আপনার ঘটনাটি খুবই বিস্ময়কর। ” তখন ইউসুফ عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام বললেন: “ আবওয়া নামক স্থানে গ্রাম্য মহিলার সাথে সংগঠিত আপনার ঘটনাটিও বিস্ময়কর। ”
[ইহইয়াউল উলুম, ৩য় খন্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা]
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হােক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হােক।
আপনারা দেখলেন তাে! সুলায়মান বিন ইয়াসার رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِعَلَیہ নিজ থেকেই আগত বােরকা পরিহিতা মহিলাকে তাড়িয়ে দিলেন। (শুধু তাই নয়) বরং খােদার ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন। যার ফলে হযরত সায়্যিদুনা ইউসুফ عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام স্বপ্নযােগে এসে তাকে উৎসাহ প্রদান করেন। যাই হােক দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল এতেই যে, নারী সম্প্রদায় লাখাে মন আকৃষ্ট ও গুনাহের প্রতি আগ্রহী করুক, কিন্তু মানুষের উচিত যে কখনােও যেন তার ধোঁকায় না পড়া। প্রতিটি অবস্থায় তার ধোঁকা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে ও অগণিত নেকী অর্জন করুন।
[গ্রন্থ: “ পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর ”
লিখক: আমীরে আহলে সুন্নাত, মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবী دَامَتۡ بَرَکاتُہُمُ الۡعَالِیَہ। অধ্যায়: অবৈধ প্রেম-ভালবাসা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর। পৃষ্ঠা: ২৭৮-২৮০ হতে সংগৃহীত]

0 Comments