দরূদ পাঠকারী মৌমাছি
‘মসনবী শরীফে’ বর্ণিত আছে:
একবার তাজেদারে মদীনা, হুযুর ﷺ মৌমাছি’কে জিজ্ঞাসা করলেন: ‘তুমি মধু কিভাবে বানাও’ সে আরয করলাে: “ ইয়া হাবীবাল্লাহ ﷺ! আমরা বাগানে গিয়ে সব ধরণের ফুল থেকে রস চুষে নিই, অতঃপর সেই রস মুখে নিয়ে নিজেদের বাসস্থানে ফিরে আসি, এবং সেখানে তা বমি করে দিই, আর এটিই মধু।’ ইরশাদ করলেন: ‘ফুলের রস তাে পানসে হয় আর মধু তাে মিষ্ট, এটা বলাে যে, মধুতে মিষ্টতা কিভাবে আসে?’ মৌমাছি আরয করলাে:
گفت چوں خوانیم براحمد درود،
می شود شیریں و تلخی راربود.
অর্থাৎ: ‘কুদরত আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে, যেন বাগান থেকে বাসস্থান পর্যন্ত রাস্তায় আপনার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করতে করতে আসি। মধুর এই স্বাদ ও মিষ্টতা দরূদ শরীফের বরকতেই।’
[শানে হাবীবুর রহমান, ১৮৭ পৃষ্ঠা]
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! দরূদ শরীফের বরকতে ফুলের পানসে ও তিক্ত রস সব মিলে এক হয়ে যায় এবং সেগুলাের নাম মধু হয়ে যায়। এমনিভাবে হুযুর ﷺ এর গােলামীর বরকতে সকল আরবী ও অনারবী মানুষ এক হয়ে গেলাে এবং এর নাম মুসলমান হয়ে গেলাে। যেভাবে দরূদ শরীফের বরকতে পানসে রস মিষ্ট হয়ে গেল। ইনশাআল্লাহ! আমরা দরূদ শরীফ পাঠ করতে থাকবাে তবেই আমাদের পানসে ইবাদত সমূহে দরূদ শরীফের বরকতে কবুলিয়্যতের মিষ্টতা সৃষ্টি হয়ে যাবে। যেভাবে দরূদ শরীফের বরকতে মধূ শিফা স্বরূপ হয়ে গেলাে, তেমনিভাবে প্রত্যেক দোয়া দরূদ শরীফের বরকতে গুনাহের রােগের ঔষধ স্বরূপ।
‘হোঁ দরুদ ও সালাম, মেরে লব পর মুদাম,
হার গড়ি দম বদম, তাজেদারে হারাম।’
[ওয়াসায়িলে বখশিশ: ২৭১ পৃষ্ঠা]
হে আমাদের প্রিয় আল্লাহ! আমাদের সারা জীবন ফরয এবং ওয়াজিব আদায়ের পাশাপাশি আমাদের প্রিয় এবং দয়াময় আক্বা ﷺ এর প্রতি অধিকহারে দরূদ ও সালাম প্রেরণ করার তৌফিক দান করাে।
[বই: দরূদ ও সালামের পুষ্পধারা,
৭৯-৮০ পৃষ্ঠা]"

0 Comments