কুরআন মাজিদ হিফয ভুলে যাওয়ার শাস্তি:
নিঃসন্দেহে কুরআনুল কারীম হিফয করা বড় সাওয়াবের কাজ। কিন্তু স্মরণ রাখবেন! কুরআন শরীফ হিফয করা সহজ, তবে সারা জীবন তা মনে রাখা খুবই কঠিন। হাফিয সাহেব ও হাফিযা সাহেবাগণের উচিত যে, দৈনিক কমপক্ষে এক পারা অবশ্যই তিলাওয়াত করে নেয়া। যে সমস্ত হাফিয সাহেবগণ রমযানুল মুবারক আসার কিছুদিন পূর্বে শুধুমাত্র মুসল্লীদেরকে শুনানোর উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত দ্বারা ঘর সরগরম করে তোলে, এছাড়া আল্লাহ্র পানাহ! সারা বছর অলসতার কারণে তারা কুরআনের অনেক আয়াত ভুলে যায়, তাদের উচিত নিয়মিত কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহ্ তাআলার ভয়ে ভীত হওয়া। যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের একটি আয়াতও ভুলে গিয়েছে সে তা পুনরায় মুখস্থ করে নেবে এবং কুরআনের আয়াত ভুলে যাওয়ার কারণে তার যে গুনাহ হয়েছে তা থেকে সত্যিকার তাওবা করে নেবে।
(১) যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের কোন আয়াত মুখস্থ করার পর তা আবার ভুলে যায়, কিয়ামতের দিন তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠানো হবে। (পারা-১৬, সূরা- ত্বাহা, আয়াত-১২৫, ১২৬)
ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم
(২) আমার উম্মতের সাওয়াব আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, আমি এতে ঐ ক্ষুদ্র খড়কুটাও দেখতে পেয়েছিলাম, যা লোকেরা মসজিদ হতে বাইরে নিক্ষেপ করেছিল এবং আমার উম্মতের গুনাহসমূহও আমার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, এতে আমি আমার উম্মতের কোন লোক কুরআন শরীফের একটি সূরা বা আয়াত মুখস্থ করার পর তা ভুলে যাওয়ার কারণে তার যে গুনাহ হয়েছিল তার চাইতে কোন বড় গুনাহ দেখতে পাইনি। (জামে তিরমিযী, হাদীস- ২৯১৬)
(৩) যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ মুখস্থ করার পর তা আবার ভুলে যায়, কিয়ামতে দিন সে আল্লাহ্ তাআলার সাথে কুষ্ঠ রোগী হয়ে সাক্ষাৎ করবে। (আবু দাউদ শরীফ, হাদীস-১৪৭৪)
(৪) কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে যে গুনাহের জন্য পরিপূর্ণ শাস্তি দেয়া হবে তা হচ্ছে, তাদের কেউ কুরআন শরীফের কোন সূরা মুখস্থ করার পর তা আবার ভুলে গেলো। (কানযুল উম্মাল, হাদীস- ২৮৪৬)
(৫) আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَۃُ اللّٰہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ ِ বর্ণনা করেন: “সে ব্যক্তি হতে মূর্খ আর কে আছে? যাকে আল্লাহ্ তাআলা এমন শক্তি (অর্থাৎ কুরআন শরীফ মুখস্থ করার শক্তি) দান করেছেন, আর সে তা নিজেই হাতছাড়া করে দিয়েছে। যদি সে কুরআন শরীফ মুখস্থ করার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারত এবং কুরআন শরীফ মুখস্থ করাতে যে সাওয়াব ও মর্যাদা রয়েছে তা অবগত হতে পারত, তাহলে সে কুরআন শরীফ মুখস্থ করাকে নিজের প্রাণের চাইতেও বেশি প্রিয় মনে করতো।”
তিনি আরো বলেন: “ যতটুকু সম্ভব কুরআন শরীফ শিক্ষাদান, মুখস্থ করানো এবং নিজে মুখস্থ রাখার চেষ্টা করবে। যাতে এর জন্য আল্লাহ্ প্রদত্ত যে সাওয়াবের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা লাভ করার সৌভাগ্য অর্জিত হয় এবং কিয়ামতের দিন অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগী হয়ে উঠা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৩তম খন্ড, ৬৪৫, ৬৪৭ পৃষ্ঠা)
_______________________
‘নামাযের আহকাম’ বইয়ের ২১৯-২২০ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। বইটির পিডিএফ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। আরো ইসলামিক বই পেতে এখানে যান।

0 Comments