তিলাওয়াতে সিজদার ৮টি মাদানী ফুল
(১) সিজদার আয়াত পড়া বা শুনার দ্বারা সিজদা ওয়াজীব হয়ে যায়। পড়ার ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, এতটুকু আওয়াজে পড়া যেন কোন অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধকতা না থাকলে নিজে শুনতে পায়। শ্রবণকারীর জন্য এটি আবশ্যক নয় যে, ইচ্ছাকৃত ভাবে শ্রবণ করুক বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে, উভয় অবস্থায় তার উপর সিজদা ওয়াজীব হয়ে যায়।
[আলমগিরী, ১ম খন্ড, ১৩২ পৃষ্ঠা]
(২) যে কোন ভাষায় সিজদার আয়াতের অনুবাদ পাঠকারী এবং শ্রবণকারী উভয়ের উপর সিজদা ওয়াজীব হয়ে যায়। শ্রবণকারী এটা বুঝতে পারুক বা না পারুক যে, আয়াতে সিজদার অনুবাদ পাঠ করা হয়েছে। অবশ্য এটা জরুরী যে, তার জানা না থাকলে জানিয়ে দেয়া যে, এটা সিজদার আয়াতের তরজুমা ছিলো। আর (সিজদার) আয়াত পড়া হলে এটা জরুরী নয় যে, শ্রবণকারীকে আয়াতে সিজদা সম্পর্কে অবগত করিয়ে দেয়া।
[আলমগিরী, খন্ড ১ম, ১৩৩ পৃষ্ঠা]
(৩) সিজদা ওয়াজীব হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ আয়াতটি পড়া আবশ্যক কিন্তু পরবর্তী ওলামাগণের رَحِمَہُمُ اللہُ تَعَالٰی মতে, যে শব্দটিতে সিজদার মূল অংশটি পাওয়া যায় তার সাথে পূর্বের বা পরের কোন শব্দ মিলিয়ে পাঠ করলে তিলাওয়াতে সিজদা ওয়াজীব হয়ে যাবে।তাই সাবধানতা হলো, উভয় অবস্থায় তিলাওয়াতে সিজদা করা।
[ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৮ম খন্ড, ২২৩, ২৩৩ পৃষ্ঠা]
(৪) সিজদার আয়াত নামাযের বাইরে পড়া হলে তৎক্ষণাৎ সিজদা দেওয়া ওয়াজীব নয়। অবশ্য অযু থাকলে দেরী করা মাকরূহে তানযীহী।
[রদ্দুল মুহতার সম্বলিত তানবীরুল আবছার, ২য় খন্ড, ৫৮৩ পৃষ্ঠা]
(৫) নামায রত অবস্থায় তিলাওয়াতে সিজদা তৎক্ষণিক আদায় করা ওয়াজীব। যদি দেরী করে অর্থাৎ তিন আয়াতের অতিরিক্ত পড়ে নেয় তবে গুনাহগার হবে আর যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযে থাকবে ঐ সময়ের মধ্যে মনে পড়লে কিংবা সালাম ফিরানোর পর নামাযের পরিপন্থী কোন কাজ না করে থাকলে তবে তিলাওয়াতে সিজদা করে সিজদায়ে সাহু আদায় করবে।
[রদ্দুল মুহতার সম্বলিত দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৫৮৪ পৃষ্ঠা]
সাবধান! হুশিয়ার!
(৬) রমজানুল মোবারকে তারাবীহ বা শাবীনাহ (অর্থাৎ রাতে পুরো কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করার মাহফিল) এর মধ্যে অংশগ্রহণ করেননি, নিজে আলাদাভাবে নামাযে লিপ্ত আছেন এ অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনে নিলে আপনার উপরও তিলাওয়াতে সিজদা ওয়াজীব হয়ে যাবে। কাফির বা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের কাছ থেকে সিজদার আয়াত শ্রবণ করলে তবুও তিলাওয়াতে সিজদা ওয়াজীব হয়ে যাবে। বালিগ হওয়ার পর থেকে যতবারই সিজদার আয়াত শুনে আসছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন সিজদা করেননি, এ অবস্থায় মনের প্রবল ধারণানুযায়ী হিসাব করে অযু অবস্থায় সবগুলো তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করে নেয়া উচিত।
তিলাওয়াতে সিজদার পদ্ধতি
(৭) দাঁড়িয়ে اَللهُ اَكْبَرُ বলতে বলতে সিজদাতে চলে যাবেন এবং কমপক্ষে তিনবার سُبْحٰنَ رَبِّىَ الْاَعْلٰى বলবেন, অতঃপর اَللهُ اَكْبَرُ বলতে বলতে দাঁড়িয়ে যাবেন। প্রথম ও শেষে উভয়বার اَللهُ اَكْبَرُ বলা সুন্নাত এবং দাঁড়ানো থেকে সিজদাতে যাওয়া ও সিজদা হতে দাঁড়ানো উভয়বার কিয়াম করা মুস্তাহাব।
[আলমগিরী, ১ম খন্ড, ১৩৫ পৃষ্ঠা]
(৮) তিলাওয়াতে সিজদার জন্য اَللهُ اَكْبَرُ বলার সময় হাত উঠাতে হবে না। এতে তাশাহহুদও নাই সালামও নাই।
[রদ্দুল মুহতার সম্বলিত তানবীরুল আবছার, ২য় খন্ড, ৫৮০ পৃষ্ঠা]
[আমীরে আহলে সুন্নাত, হযরত মাওলানা ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবী (دامت برکاتهم العالية) কর্তৃক লিখিত “ নামাযের আহকাম ” নামক কিতাবের ১৯৫-১৯৭ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত]

0 Comments