ইবলিস নামাযের জন্য কেন জাগাল?
হযরত মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমীرَحۡمَۃُ اللّٰہ ِتَعَالٰی عَلَیہِ মসনবী শরীফে বর্ণনা করেন:
“ একবার প্রিয় নবী এর প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত সায়্যিদুনা আমীরে মুয়াবিয়া رَضِیَ اللّٰہُ تَعَالٰی عَنْہُ তাঁর কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন, হঠাৎ তাকে কেউ জাগিয়ে দিলাে, চোখ খুলে যখন দেখলেন তাে জাগ্রতকারীকে দেখায় যাচ্ছিল না, সে সময় তিনি বললেন: “ আরে তুমি কে? আর তােমার নাম কি? ” এটা শুনে শয়তান বললো: “ আমি দূর্ভাগার নাম ইবলিস, যা অনেক প্রসিদ্ধ। ” হযরত সায়্যিদুনা আমীরে মুয়াবিয়া (رضى الله عنه) বিস্মিত হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলােঃ “ আরে ইবলিসের কাজ তাে মুসলমানকে ধোঁকা দিয়ে তার নামায কাযা করে দেয়া, যদি তুমি ইবলিস হতে তাহলে তুমি আমাকে নামাযের জন্য কেন জাগালে? তােমার কাজতাে নামায থেকে বিরত রাখা, নামায পড়ানাে তাে তােমার কাজই নয়। ” এটা শুনে ইবলিস বললােঃ “ শুনুন! আর শিক্ষা নিয়ে মাথা পরিষ্কার করুন! শয়তান দাত বের করে বলল যে: “ আমি এজন্য জাগালাম যে যদি সেই সময়ের নামায চলে যেত তাহলে আপনি খুব আফসােস করতেন ব্যথিত অন্তরে কান্নাকাটি করতেন, নামায ছুটে যাওয়ার চিন্তায় আপনার আফসােস এবং অস্থিরতা ও আল্লাহ পাকের দরবারে আপনার আহাজারী (অর্থাৎ কান্নাকাটি) সাওয়াবের মাঝে দুইশ রাকাত নামায থেকেও বেড়ে যায়। সুতরাং আমি আপনাকে নামাযের জন্য জাগিয়ে দিলাম যেন আপনার সাওয়াব বেড়ে না যায়।
‘মান হাসুদম আয হাসাদ করদম ছুনে,
মান আদুওয়াম কার মান মাকরে আসতা ওয়া কে।’
অর্থাৎ “ আমি মুসলমানদের হিংসাকারী এবং এ হিংসার স্পৃহা বৃদ্ধির কারণে আমি আপনাকে নামাযের জন্য জাগিয়ে দিয়েছি (যেন আপনার অধিক সাওয়াব না মিলে) আমি তাে মুসলমানদের দুশমন, ধোকা আর দুশমনি আমার কাজ। ”
[মাসনবী মায়াবী মাআ তাফসীরে ইরফানী: ২য় খন্ড, ৩২৭-৩৪৭ পৃষ্ঠা]

0 Comments