দুর্ভাগা প্রেমিকের যুক্তি!


প্রশ্ন:-  কতিপয় প্রেমিক মুর্খতার কারণে হযরত সায়্যিদুনা ইউসুফ َ(عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام) ও জুলেখার উদাহরণ পেশ করে (প্রেমকে জায়েজ বলতে চায়), তাদেরকে কিভাবে উত্তর দেয়া যায়?

উত্তর:- নিশ্চয় সেই দুর্ভাগা প্রেমিক মারাত্মক ভুলে লিপ্ত রয়েছে। নফসের ধােকায় পড়ে শয়তানের কথানুযায়ী চিন্তাভাবনা না করেই কোন নবীর ব্যাপারে মুখ খােলা ঈমানের জন্য খুবই সাংঘর্ষীক। স্মরণ রাখবেন! নবী َ(عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام) এর সামান্য পরিমাণ বেয়াদবীও কুফরী। হযরত সায়্যিদুনা ইউসুফ َ(عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام) আল্লাহ্ তাআলার নবী ছিলেন এবং প্রত্যেক নবী নিস্পাপ। নবীর দ্বারা কোন প্রকারের মন্দ কাজ সংগঠিত হওয়া অসম্ভব।

আল্লাহ তাআলা ১২ তম পারার সূরা ইউসুফের ২৪ নং আয়াতে ইরশাদ করেন:

«وَلَقَدۡ ہَمَّتۡ بِہٖ ۚ وَہَمَّ بِہَا لَوۡلَاۤ اَنۡ رَّاٰ بُرۡہَانَ رَبِّہٖ ؕ»

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ:
“ এবং নিশ্চয় স্ত্রীলােকটা তার কামনা করেছিলাে এবং সেও স্ত্রীলােকের ইচ্ছা করতাে যদি আপন রবের নিদর্শন না দেখতাে। ” 
(পারা ১২, সূরা ইউসূফ, আয়াত: ২৪)

সদরুল আফাযিল হযরত আল্লামা নঈম উদ্দিন মুরাদাবাদী (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِتَعَالٰی عَلَیہِ) বলেন: “ আল্লাহ্ তাআলা সমস্ত নবীদের َ(عَلَیۡہِم الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام) পবিত্র অন্তরকে মন্দ চরিত্র ও মন্দ কাজ থেকে পবিত্র করে সৃষ্টি করেছেন এবং উত্তম চরিত্র দ্বারা তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য তারা সকল মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে। একটি বর্ণনা এমনও রয়েছে যে, “ যখন জুলেখা তাঁর সামনে আসলাে তখন তিনি তাঁর সম্মানিত পিতা হযরত সায়্যিদুনা ইয়াকুব َ(عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام) কে দেখলেন যে, তিনি আঙ্গুল মােবারককে দাঁতের নিচে চাপ দিয়ে তাঁকে বেঁচে থাকার ইশারা করেছেন। ”
(খাযায়িনুল ইরফান, ৩৮০ পৃষ্ঠা)

সত্য এটাই যে, প্রেম শুধু জুলেখার পক্ষ থেকে ছিলাে হযরত ইউসুফ َ(عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام) এর পবিত্র সত্বা তা থেকে পবিত্র ছিলাে। সূরা ইউসুফের ৩০ নং আয়াতে মিশরের অভিজাত অনেক মহিলার বর্ণনা এভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে:

«وَقَالَ نِسۡوَۃٌ فِی الۡمَدِیۡنَۃِ امۡرَاَتُ الۡعَزِیۡزِ تُرَاوِدُ فَتٰىہَا عَنۡ نَّفۡسِہٖ ۚ قَدۡ شَغَفَہَا حُبًّا ؕ اِنَّا لَنَرٰىہَا فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ»

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: 
“ এবং শহরে কিছু নারী বললাে: আযীযের স্ত্রী (অর্থাৎ জুলেখা) তার যুবকের (অর্থাৎ হযরত ইউসুফের) হৃদয়কে প্রলােভিত করেছে; নিশ্চয় তাঁর প্রেম তার অন্তরকে উন্মত্ত করেছে, আমরাতাে তাকে (অর্থাৎ জুলেখাকে) সুস্পষ্ট প্রেম-বিভাের দেখতে পাচ্ছি। ”
(পারা: ১২, সুরা ইউসুফ: আয়াত: ৩০)

হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম মুহাম্মদ গাযালী (رَحۡمَۃُ اللّٰہ ِتَعَالٰی عَلَیہِ) বলেন: “ জুলেখার প্রবল ইচ্ছা ছিলাে, কিন্তু হযরত সায়্যিদুনা ইউসুফ َ(عَلَیۡہِ الصَّلٰوۃُُ وَالسَّلَام) শক্তি ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার প্রতি আসক্ত হওয়া থেকে বিরত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা কোরআনে পাকে তাঁর বিরত থাকাকে অনেক প্রসংশা করেছেন। ” (ইহইয়াউল উলুম: ৩য় খন্ড, ১২৯ পৃষ্ঠা)

[প্রশ্নোত্তরটি আমীরে আহলে সুন্নাত, মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবী دَامَتۡ بَرَکاتُہُمُ الۡعَالِیَہ এর লিখিত গ্রন্থ: “ পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর ” অধ্যায়: অবৈধ প্রেম-ভালবাসা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর, পৃষ্ঠা: ২৭২-২৭৩ থেকে সংগৃহীত]

Post a Comment

0 Comments