ইফতারের ফযীলত সম্পর্কে  ১১টি হাদিস শরীফ


ইফতারের ফযীলত সম্পর্কে  ১১টি হাদিস শরীফ

১. হযরত সায়্যিদুনা সাহল ইবনে সা‘দ رضى الله عنه থেকে বর্ণিত, আরব ও অনারবের সুলতান, রহমতে আলামিয়ান হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেছেন, “মানুষ সব সময় মঙ্গল সহকারে থাকবে যতদিন তারা ইফতারে তাড়াতাড়ি করবে।” (সহীহ বুখারী, খন্ড-১ম, পৃ-৬৪৫, হাদীস নং-৬৯৫৭)

২. তাজেদারে মদীনা, হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেন, “আমার উম্মত আমার সুন্নতের উপর থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইফতারের সময় আকাশে তারকা উদিত হবার জন্য অপেক্ষা করবে না।” (আল ইহসান বিতরতীবে সহীহ ইবনে হাব্বান, খন্ড-৫ম, পৃ-২০৯, হাদীস নং-৩৫০১)

৩. হযরত সায়্যিদুনা আবূ হুুরায়রা رضى الله عنه থেকে বর্ণিত, প্রিয় আকা তাজদারে মদীনা হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “আমার বান্দাদের মধ্যে বেশি প্রিয় হচ্ছে সে-ই, যে ইফতারে তাড়াতাড়ি করে।” (তিরমিযী, খন্ড-২য়, পৃ-১৬৪, হাদীস নং-৭০০)

৪. হযরত সায়্যিদুনা আনাস ইবনে মালেক رضى الله عنه  বলেন, “আল্লাহর মাহবূব হযরত মুহাম্মদ ﷺ   কে এভাবে দেখিনি যে, তিনি ﷺ ইফতারের পূর্বে মাগরিবের নামায আদায় করেছেন বরং এক ঢোক পানি হলেও (যথাসময়ে) পান করে নিয়েছেন। অথচ ইফতার করে নিতেন।) (আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব, খন্ড-২য়, পৃ-৯১, হাদীস নং-৯১)

৫. হযরত সায়্যিদুনা আবু হুুরায়রা رضى الله عنه   থেকে বর্ণিত, তাজদারে মদীনা, সুরুরে কলবো সীনা হযরত মুহাম্মদ  ﷺ ইরশাদ করেছেন, “এ দ্বীন ততদিন বিজয়ী থাকবে, যতদিন পর্যন্ত লোকেরা ইফতার তাড়াতাড়ি করতে থাকবে। কারণ, ইহুদী ও খৃষ্টানরাই দেরীতে (ইফতার) করে থাকে।” (সুনানে আবু দাউদ, খন্ড-২য়, পৃ-৪৪৬, হাদীস নং-২৩৫৩)

৬. হযরত সায়্যিদুনা যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী  رضى الله عنه  থেকে বর্ণিত, তাজদারে মদীনা হযরত মুহাম্মদ ﷺ  ইরশাদ করেছেন,“যে ব্যক্তি কোন ধর্মীয় যোদ্ধা কিংবা হাজীকে সামগ্রী (পাথেয়) যোগান দিয়েছে, কিংবা তার পেছনে তার পরিবার-পরিজনের দেখাশুনা করেছে, অথবা কোন রোযাদারকে ইফতার করিয়েছে, সেও তার সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে-তাদের সাওয়াবে কোনরূপ কম করা হবে না।“  (নাসায়ীকৃত আসসুনানুল কুবরা, খন্ড-২য়, পৃ-২৫৬, হাদীস নং-৩৩৩০)

৭. হযরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী رضى الله عنه  থেকে বর্ণিত, মক্কা-মদীনার সুলতান, রহমতে আলামিয়ান হযরত মুহাম্মদ  ﷺ ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি হালাল খাদ্য কিংবা পানীয় দ্বারা (কোন মুসলমান) কে রোযার ইফতার করালো, ফিরিশতাগণ মাহে রমযানের সময়গুলোতে তার জন্য ইস্তিগফার করেন। আর (হযরত) জিব্রাঈল عليه السلام শবে ক্বদরে তার জন্য ইস্তিগফার করেন।” (তাবরানী আল-মু‘জামূল কবীর, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃ-২৬২, হাদীস নং-৬১৬২)

৮. অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে রমযানে রোযার ইফতার করায়, রমযানের সমস্ত রাতে ফিরিশতাগণ তার উপর দুরূদ (রহমত) প্রেরণ করেন, আর শবে ক্বদরে জিব্রাঈল عليه السلام তার সাথে মোসাফাহা করেন। বস্তুতঃ যার সাথে হযরত জিব্রাঈল عليه السلام মোসাফাহা করেন, তার চোখ দুটি আল্লাহ তাআলার ভয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে যায় এবং তার হৃদয় গলে যায়। (কানযুল উম্মাল, খন্ড-৮ম, পৃ-২১৫, হাদীস নং-২৩৬৫৩)

৯. অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, “যে ব্যক্তি রোযাদারকে পানি পান করাবে, আল্লাহ তাআলা তাকে আমার ‘হাওয’ থেকে পান করাবেন। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত কখনো পিপাসার্ত হবে না।” (সহীহ ইবনে খুযাইমা, খন্ড-৩য়, পৃ-১৯২, হাদীস নং-১৮৮৭)

১০. হযরত সায়্যিদুনা সালমান ইবনে আমের رضى الله عنه থেকে বর্ণিত, তাজদারে মদীনা, হযরত মুহাম্মদ  ﷺ ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ রোযার ইফতার করে, তবে সে যেনো খেজুর কিংবা খোরমা দিয়ে ইফতার করে। কারণ, তা হচ্ছে বরকত। আর তা না হলে পানি দ্বারা করবে, তাতো পবিত্রকারী।” (জামে তিরমিযী, খন্ড-২য়, পৃ-১৬২, হাদীস নং-৬৯৫)

১১. হযরত সায়্যিদুনা আনাস رضى الله عنه থেকে বর্ণিত, “শাহানশাহে মদীনা হযরত মুহাম্মদ ﷺ  নামাযের পূর্বে তাজা-ভেজা খেজুর সমূহ দ্বারা ইফতার করতেন। এটা না থাকলে কয়েকটা খোরমা দিয়ে আর তাও না থাকলে কয়েক (গ্লাস) পানি দ্বারা ইফতার করে নিতেন। (সুনানে আবু দাউদ, খন্ড-২য়, পৃ-৪৪৭, হাদীস নং-২৩৫৬)

[আমীরে আহলে সুন্নাত, হযরত মাওলানা ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবী (دَامَتۡ بَرَکاتُہُمُ الۡعَالِیَہ) কর্তৃক লিখিত “ ফয়যানে রমযান ” নামক কিতাব হতে সংক্ষেপিত]

Post a Comment

0 Comments